মেঘের আজ মন খারাপ , ভীষণভাবে মন খারাপ।সে সকাল থেকে চেষ্টা করছে এই ভীষণ মন খারাপের কারণ বের করতে।কিন্তু ভেবে কোনো কুল কিনারা করতে পারছে না।
সকাল থেকে কেমিস্ট্রি ল্যাবে দাঁড়িয়ে থেকে থেকে সে এই এক ভাবনাই ভেবে যাচ্ছে।ভাবনায় ডুবে থাকার কারণে তার এক্সপেরিমেন্টে ভুল হচ্ছে।কনসানট্রেটেড হাইড্রোক্লোরিকের জায়গায় ডাইলুট এসিড দিয়ে দেবার মতো ঘটনাও নাকি ঘটছে। তার ভাষ্যমতে বুঝলাম এটা একটা বড় ভুল , আমি এইসব বুঝিনা কারণ আমি কমার্স এর ছাত্রী !
মেঘ কোনো মতে ল্যাবটা শেষ করেই সে টঙে এসে বসলো আর আমাকে কল দিলো । সাথে জানালো এককাপ চা খেয়ে আগে তীব্র মাথাব্যথার একটা ব্যবস্থা করা জরুরি, তারপর মন খারাপের কারণ নিয়ে ভাবা যাবে। আমি যেতে যেতে মেঘ নাকি চার কাপ চা খেয়ে ফেলেছে , আমি আরেক কাপ চা অর্ডার দেওয়াতে সে বললো চলো অন্য কোথাও যাই , চা আর খাবোনা ।
চা ফিরিয়ে দেওয়া মানুষ আমার পছন্দ না ,মেঘেরও না .... তবে মেঘ আজ চা ফিরিয়ে দিয়েছে তার পিছনে নিশ্চই অনেক বড় মন খারাপ আছে তাই তারে অপছন্দের তালিকায় রাখলাম না আগে ভাগে ।

ক্যাম্পাসে নতুন নাগা মরিচের সিঙ্গারা পাওয়া যাচ্ছে , মেঘকে টেনে নিয়ে ওই দোকান থেকে অনেকগুলো সিঙ্গারা খাওয়ালাম , ঝাল খেতে খেতে তার মাথা ব্যথাটা কিছুটা কমলো।
কিছুক্ষন চুপ থেকে সে বলে উঠলো ,
"মস্তিষ্কের নিউরনগুলো মন খারাপ নিয়ে কাজ করতে শুরু করেছে।এই ভাবনাটা অনেকটা সেকেন্ড অর্ডার ডিফারেন্সিয়াল ইক্যুয়েশনের মতো।এর সমাধান দুইটা,একটা বাস্তব অন্যটা কাল্পনিক।বাস্তব সমাধানটা আমি ইতিমধ্যেই বের করে ফেলেছে।তার খুব কাছের বন্ধু একমাস বাদেই বিদেশে চলে যাবে হায়ার স্ট্যাডির জন্য।এবার কাল্পনিক সমাধানটা বের করা জরুরি!"
আমি বুঝলাম কাল্পনিক সমাধানটা কি , কেন মেঘের মন খারাপ ।তার মতন টেলেন্টেড মানুষ বিক্রিয়া ভুল করেছে ভেবে একটু ভাবনায় ছিলাম এখন বুঝেছি কেন সে বিক্রিয়া ভুল করেছে ।
অনেকক্ষণ চুপ করে থাকলাম , প্রায় আধ ঘন্টা ।মেঘ মাটিতে নজর দিয়ে রেখেছে আর আমি মেঘের দিকে । হালকা হালকা বাতাস বইছে ।আজ আমি চোখে কাজল দিয়ে গেছিলাম । মেঘ দেখেনি কারণ ও একবারো আমার দিকে তাকায়নি ।
মেঘ মাথা উঠালো , কিছু বলবে বলে প্রস্তুতি নিলো ।আমি আস্তে করে দাড়িয়ে পরলাম । মেঘ করুন দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলো , হয়তো চোখের কাজল দেখেছে । আমার গলা ভারি হয়ে এসেছিলো , কান্না করলে কাজল লেপ্টে যাবে , লেপ্টে যাওয়া কাজল মেঘের পছন্দ না ।দেরি না করে " আজ আসি " বলে চলে গেলাম , একটু সামনে গিয়ে মেঘকে কল দিলাম , বললাম
" কল্পনা যা করেছো তাই বাস্তবায়িত হলো , পিছুটান রেখোনা , আমি থাকবো "
আজকের মতন এখানেই বিদায় নিচ্ছি , দেখা হবে খুব শীঘ্রই , নতুন এক গল্প জগৎ নিয়ে ।
চার কাপ চা খাওয়ার পর, কেউ আবার চা অফার করলে যে কেউ সেটা রিজেক্ট করবে,মন ভালো থাকুক বা খারাপ থাকুক।হা হা হা
মন ভালো থাকলে মানুষ আবার চা ফিরিয়ে দিতে পারে নাকি ! অনেকে দেয় হয়তো তবে বৃষ্টি কিংবা কেউই চা ফিরিয়ে দেওয়ার মতবাদে বিশ্বাসী না ! চা তো আবেগের জায়গা !